ভারতের বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, যুক্তিবাদী বক্তা ও আলোচিত লেখক হলেন ডাক্তার জাকির নায়েক। বাস্তবজীবনেও তিনি একজন ডাক্তার। তবে দ্বীনের খিদমত এবং ইসলামের প্রসারে ভূমিকা রাখার জন্যে তিনি তার এই ডাক্তারির পেশা(proffession) ছেড়ে একজন দায়ি হিসাবে নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এখন অব্দি পৃথিবীর অসংখ্য অগণিত মানুষ তার হাত ধরে দ্বীনের পথে ফিরে এসেছেন এবং মহান আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা ও মুহাম্মদ (স) কে তাঁর প্রেরিত রাসুল হিসাবে মেনে নিয়েছেন।
জাকির নায়েকের জীবনী, ডক্টর জাকির নায়েকের জীবনী, জাকির নায়েকের পরিবারের সম্পর্কে, জাকির নায়েকের জীবনী বাংলায় , জাকির নায়েকের বাংলা জীবনী , ডক্টর জাকির নায়েকের জীবনী , জাকির নায়েকের বায়োগ্রাফি , জাকির নায়েকের বায়োগ্রাফি বাংলা , জাকির নায়েকের বাংলা বায়োগ্রাফি , জাকির নায়েকের বংশ পরিচয়, জাকির নায়েকের পুরো নাম , ডক্টর জাকির নায়েকের বায়োগ্রাফি
ড. জাকির নায়েক এর ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন(IRF) নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটিই মূলত পিস টিভি নেটওয়ার্ক(Peace Tv Network) পরিচালনা করে থাকে। উল্লেখ্য যে তাঁর এই চ্যানেলে কোনো ধরণের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয় না এবং এই চ্যানেলটি ইংরেজী, উর্দু,বাংলা ও চাইনিজ ভাষায় প্রচারিত সয়ে থাকে। তিনি তাঁর বক্তৃতার মাধ্যমে কোরআন ও হাদীসের আলোকে বিজ্ঞানসম্মত সঠিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন। বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের রেফারেন্স প্রদান এবং বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি দেখানোর মাধ্যমে ইসলামকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা তাঁর অন্যতম কৌশল।
সংক্ষিপ্ত জীবন ইতিহাস:
তাঁর পুরো নাম হলো জাকির আব্দুল করিম নায়েক।তিনি ১৯৬৫ সালের ১৮ই অক্টোবর (October) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুম্বাই শহরের সেন্ট পিটার্স হাই স্কুল এর ছাত্র ছিলেন । এরপর তিনি কিসিনচাঁদ চেল্লারাম কলেজ(college) এ ভর্তি হন । তিনি মেডিসিন বিষয় টপিয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ & নাইর হসপিটাল এ ভর্তি হন । এরপর University Of Mumbai থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন । শল্যচিকিৎসায় সব্র্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পরেও ১৯৯১ সাল থেকে তিনি ইসলাম ধর্মের প্রচারে মনোনিবেশ করেছেন। আর বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে (comparative religion) একজন অপ্রতিদন্দ্বী পণ্ডিত এবং অপরিমেয় স্মৃতিশক্তিধর বক্তা হিসাবে পুরো পৃথিবী জুড়ে সুখ্যাতি অর্জন করেন।
এই সময়েই তিনি আইআরএফ(IRF) প্রতিষ্ঠা করেন । ডাঃ জাকির নায়েক তার লেকচারে বলেছেন, তিনি আহমেদ দিদাতের দ্বারা অনুপ্রাণিত । তিনি এই প্রখ্যাত দায়ী সাথে 1987 সালে সাক্ষাত করেন । উল্লেখ্য যে, ডাঃ জাকিরকে প্রায় সময়েই ‘’’দিদাত প্লাস’’’ বলে ডাকা হয়, আর এই উপাধি আহমাদ দিদাত নিজেই তাকে দিয়েছিলেন।)
ডাঃ জাকির নায়েক (Zakir Naik) বলেন তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে শিক্ষিত(educated) মুসলমান যারা নিজ ধর্মকে ত্রুটিপূর্ণ এবং সেকেলের বলে মনে করেন তাদের এই ভূল ধারণাকে মেঙে দেয়া এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে কুরআনের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করা । আর তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মুসলমানেরই উচিত ইসলাম সম্বন্ধে বিধর্মীদের ভুল ধারণাগুলো ভেঙে দেওয়া এবং পশ্চিমা মিডিয়া ইসলাম নিয়ে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো । ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে (america) 11ই সেপ্টেম্বর , ২০০১ এর নাইন ইলেভেন এর সাজানো নাটককে বোঝান ।
থমাস ব্লম হানসেন বলেছেন যে, ডাঃ জাকির নায়েক (Dr. Zakir Naik) এর কুরআন হাদিস ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি মনে রাখার ভঙ্গী একটা সাহিত্য । ডা. জাকির নায়েক এর অনেক লেকচার রেকর্ড করা হয় এবং তারপর ডিভিডি মিডিয়া, অনলাইনে এবং পীস টিভি নেটওয়ার্কে প্রচারিত করা হয় । তিনি তাঁর বেশিরভাগ লেকচার ই ইংরেজিতে দেন । এতে করে সারা পৃথিবীর মানুষ ই তাঁর লেকচার বুজতে পারে। কিছু কিছু লেকচার বাংলা, উর্দু, চাইনিজ ভাষায় অনুদিত ও হয় । বিতর্ক ও সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময়, বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণে তিনি বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের অধ্যায় ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করে রেফারেন্স দিয়ে থাকেন।
পিস টিভি তাদের বাংলা সংস্করণ ও বের করে ।এবং এর নাম দেওয়া হয় ‘Peace Tv Bangla’ । এখানে ডাঃ জাকির নায়েকের লেকচার বাংলায় প্রচারিত হয় । এছাড়া, বাংলাদেশি চ্যানেল ‘ইসলামিক টিভি’ তেও তাঁর লেকচার প্রচারিত হতো।
তিনি আর সবার মতো পান্জ্ঞাবী পাজামা পরে বক্তৃতা দেন না। তিনি সবসময় কোর্ট টাই পরে বক্তব্য রাখেন। তবে এই সুযোগে অনেকেই তাঁর সমালোচনা করেন। তবে তিনি বলেছেন, কোর্ট -টাই মোটেও ইসলামিক শরীয়াহ তে নিষিদ্ধ নয়। এবং বর্তমান পৃথিবীর প্রথম সারির ইসলামিক স্কলার রাও তাঁর এই বক্তব্যের সাথে সহমত প্রদান করেছেন।
Zakir Naik biography, zakir Naik Bangla biography, zakir Naik full biography Bangla , zakir Naik jiboni , jakir Naik biography, ড. জাকির নায়েকের সম্পূর্ণ জীবনী , jakir Naik Bangla biography
বক্তৃতা ও বিতর্ক
ডাঃ জাকির নায়েক এখন অব্ধি অসংখ্য লেকচার দিয়েছেন এবং বিতর্ক করেছেন । তাঁর অন্যতম সেরা বিতর্ক টি হয় শিকাগোতে ' ডা. উইলিয়াম ক্যাম্পবেল' এর সাথে । ডাঃ জাকির নায়েক ২০০০ সালের এপ্রিল মাসে ‘বিজ্ঞানের আলোয় কুরআন ও বাইবেল’ এই বিষয়ে উইলাম ক্যাম্পবেলের সাথে বিতর্ক করেন। উইলাম ক্যাম্পবেল কুরানের প্রায় 20 টির ও বেশি বৈজ্ঞানিক ভূল বের করেন। । ডাঃ জাকির নায়েক সবগুলো ভূলের যুক্তিযুক্ত জবাব দেন এবং তারপর বাইবেল থেকে 40 টির ও বেশি বৈজ্ঞানিক ভূল বের করেন। তবে উইলিয়াম ক্যাম্পবেল একটির ও জবাব দেন নি, তিনি বলেছেন তার কাছে আপাতত কোনো জবাব নেই, তবে ভবিষ্যতে কেউ এর জবাব দেবে। এই বিতর্ককে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিতর্ক বলেও আখ্যায়িত করা হয়। ভারতের শীর্ষ হিন্দুধর্মের গুরু শ্রী শ্রী রবি শংকর এর সাথে ২১ জানুয়ারী ২০০৬ এ 'ইসলাম ও হিন্দু ধর্মে ঈশ্বর’ এই বিষয়ে ব্যাঙ্গালোরে বিতর্ক করেন। এছাড়াও শামী গোলকানান্দ, খ্রিস্টধর্মের ফাদার জিও, প্যাস্টর রুকনুদ্দিন সহ অনেকের সাথে তিনি বিতর্ক করেছেন। এই বিতর্কগুলোতে জয় পরাজয় না থাকলেও জাকির নায়েক তাঁর যুক্তি প্রমাণ, রেফারেন্স ও বিজ্ঞানসম্মত আলোচনার মাধ্যমে অঘোষিত বিজয়ী হয়েছেন ।( এই বিতর্ক গুলো বাংলা ভাষায় ইউটিউবে পাওয়া যাবে )।
জাকির নায়েক বলেন, ‘ ইসলামের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার চালানো হলেও, সেপ্টেম্বর 2001 থেকে জুলাই 2002 এর মধ্যে প্রায় 3000 এর অধিক আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করেছে’। তিনি বলেন, ‘ইসলাম একটি যুক্তির ধর্ম এবং পবিত্র কুরআনে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রায় ১০০০ টির ও বেশি আয়াত রয়েছে। ডাঃ জাকির নায়েকের অন্যতম জনপ্রিয় কৌশল হলো হল বিজ্ঞানের সূত্র দিয়ে কোরআনকে যাচাই করা।
"মুফতি আব্দুল ইরফান মিয়াঁ ফিরিঙ্গি মাহালি ডাঃ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন যে তিনি ওসামা বিন লাদেনকে সমর্থন করেন এবং ড. জাকির নায়েকের পদ্ধতি অ-ইসলামিক।"
নভেম্বর ২০০৭ সালে ডাঃ নায়েক মুম্বাইতে একটি শান্তি সম্মেলন এর আয়োজন করেন যেখানে তাঁর পাশাপাশি আরও প্রায় ২০ জন ইসলামি পণ্ডিত বক্তব্য রাখেন । এসময় ড. জাকির নায়েক শিয়া ও সুন্নিদের বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেন । তিনি খলিফা ইয়াজিদের নামের পর রাদিআল্লাহু তা’ আলা বলেন , এরপরেই তিনি বহু মুসলমান দ্বারা ঘৃণিত হতে শুরু করেন । বিশেষ করে শিয়াদের দ্বারা । তিনি আরও বলেছিলেন, কারাবালার যুদ্ধটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত । তাঁর এই মন্তব্যটিও যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছিল।
বহির্বিশ্বে ড. জাকির নায়েকঃ
‘একমাত্র ইসলামই নারীদের সমতা দেয়’ এ বিষয়ে ডাঃ জাকির নায়েক 2004 সালে ‘ইসলামিক ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিস নেটওয়ার্ক অফ অস্ট্রেলিয়া’ এর আমন্ত্রণে melborne ইউনিভার্সিটিতে একটি বিতর্ক করেন । তিনি আরও বলেন যে, পশ্চিমা সংস্কৃতির জামা কাপড় ই মেয়েদের ধর্ষণের অন্যতম একটা কারণ ।এর কারণ হলো এটা মেয়েদেরকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে ।
ডা. জাকির নায়েককে 2010 সালের জুন মাসে যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে জাকির নায়েক:
বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের "লজ্জা" নামের বইটিকে কেন্দ্র করে ভারতের স্থানীয় সাংবাদিকদের দ্বারা আয়োজিত একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে ডঃ জাকির নায়েক অংশগ্রহণ করেন। তিনি "লজ্জা" বইটি থেকে ইসলামকেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্ধৃতিকে ভূল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়াও, ঐ অনুষ্ঠানে তিনি তসলিমা নাসরিনকে তাঁর সাথে সরাসরি বিতর্কে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ ব্যক্ত করেন।
পুরষ্কার, উপাধি এবং সম্মাননাঃ
তাঁর উল্লেখযোগ্য পুরষ্কার এর মধ্যে রয়েছে-
বক্তৃতা ও বইসমুহ:
ডা. জাকির নায়েক বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর বক্তৃতায় বিভিন্ন ধর্মের আমন্ত্রিত ও অনামন্ত্রিত অসংখ্য শ্রোতা অংশগ্রহণ করেন। তিনি অসংখ্য বইও লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-


